রোহিঙ্গা সংকটের শেষ কোথায়

148

রোহিঙ্গা সংকট কি ক্রমেই সমাধানের অযোগ্য হয়ে পড়ছে? সংগত কারণেই আজ এমন প্রশ্ন উঠছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কবে, কখন শুরু হবে বা শেষ হবেÑকিছুই বলা যাচ্ছে না। অন্যদিকে ভূ-রাজনৈতিক কারণে এ সংকটে বিশ্বের বৃহৎ শক্তিগুলোর অবস্থান ক্রমেই দুই মেরুতে চলে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বড় শক্তিগুলো চাইছে, রোহিঙ্গাবিরোধী গণহত্যায় জড়িতদের বিচার এবং রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদানসহ মৌলিক বিষয়গুলো সমাধানের পরই প্রত্যাবাসন শুরু হোক। অন্যদিকে চীন, রাশিয়াসহ আরো কিছু দেশ চাইছে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার মিলে এ সমস্যার সমাধান করুক। অন্য কোনো দেশের এখানে নাক গলানোর প্রয়োজন নেই। তারা জাতিসংঘে মিয়ানমারবিরোধী সব উদ্যোগেরও বিরোধিতা করে আসছে। এ অবস্থার সুযোগ নিচ্ছে মিয়ানমার। বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েও তারা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নানা রকম টালবাহানা করছে। কিন্তু বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে নিয়ে কী করবে? কত দিন এই বোঝা বহন করতে পারবে? এর ফলে সৃষ্ট ব্যাপক নিরাপত্তা ঝুঁকি কিভাবে মোকাবেলা করবে?

গত বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে শুধু বিতর্ক হয়েছে। সমাধানের নূন্যতম কোনো ইঙ্গিতও আসেনি বৈঠক থেকে। এক পক্ষ মিয়ানমারকে শায়েস্তা করার জন্য তোড়জোড় করেছে; অন্য পক্ষ বলেছে, এসব করে সমাধানের পথ রুদ্ধ করা হচ্ছে। কিন্তু শায়েস্তা করার পক্ষে যেমন কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি, তেমনি কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি সমাধানের লক্ষ্যেও। এ অবস্থায় সমাধান কিভাবে আসবে। বাংলাদেশ চায় রোহিঙ্গাদের স্থায়ী, নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন। অবশ্যই তা হতে হবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে। কারণ এ সংকটের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশও। শুধু তা-ই নয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তাও নানাভাবে হুমকির মুখোমুখি হচ্ছে। এমনই সময়ে বাংলাদেশ সফরে এসেছেন চীনের জননিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ও স্টেট কাউন্সেলর ঝাও কেঝি। গত বৃহস্পতিবার তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। গতকাল শুক্রবার তিনি বৈঠক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে। উভয় বৈঠকে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, রোহিঙ্গা সংকটে তাঁর দেশ ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, দ্রুত এ সংকটের সমাধান হবে। আমরা তাঁর কথায় আস্থা রাখতে চাই। আমরা জানি, মিয়ানমারে চীনের বিশাল অর্থনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। মিয়ানমারও চীনের প্রতি অনেক বেশি আস্থাশীল। আমাদের বিশ্বাস, চীন আন্তরিক হলে মিয়ানমারও দ্রুত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সম্মত হবে।

আমরা বিশ্বাস করি, মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার মতো পরিবেশ সৃষ্টি হলেই শুধু রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব। তা না হওয়া পর্যন্ত কোনো রোহিঙ্গাই আবার আগুনের মুখে ঝাঁপ দিতে রাজি হবে না। তাই মিয়ানমারকে সেই পরিবেশ সৃষ্টির ব্যাপারে তাগিদ দিতে হবে। আমরা চাই, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবিক দিকগুলো বিবেচনায় নিয়ে চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ বড় দেশগুলো ঐকমত্যে আসুক এবং সংকট সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখুক। কোনোভাবেই এ সংকট আর দীর্ঘায়িত হতে দেওয়া উচিত নয়।

SHARE