পুনর্বাসন না করেই রাজশাহীর ৮০ ব্যবসায়ীকে উচ্ছেদ

18

স্টাফ রিপোর্টার : ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়নি। পুনর্বাসনও করা হয়নি। কিন্তু সড়ক সম্প্রসারণের জন্য রাজশাহীর ৮০ জন ব্যবসায়ীকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। রাজশাহীর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়াম মার্কেটে তাদের দোকানপাট ছিলো। মার্কেটটি ভেঙে দেয়া হয়েছে। তাই ক্ষতিপূরণের দাবিতে ব্যবসায়ীরা সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

রাজশাহী মহানগর জেলা স্টেডিয়াম মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির ব্যানারে বুধবার দুপুরে ভেঙে দেয়া মার্কেটের সামনে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি শেখ মো. রেজাউর রহমান দুলাল। তার সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে দুলাল বলেন, ১৯৯২ সালে তারা এককালীন টাকা দিয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে মার্কেটটির দোকান বরাদ্দ নেন। এরপর থেকে তারা প্রতিমাসে ভাড়া দিয়ে ব্যবসা করে আসছেন। নগরীর রেলগেট-আমচত্ত্বর সড়ক সম্প্রসারণের জন্য গত বছর মার্কেট ভাঙতে লাল রঙ দিয়ে চিহ্নিত করে যায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের লোকজন। এতে মার্কেটের ব্যবসায়ীরা আতঙ্কিত হয়ে ওঠেন।

তারা বার বার জেলা ক্রীড়া সংস্থার বর্তমান সাধারণ সম্পাদক রাফিউস সামস প্যাডির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পুনর্বাসনের জন্য দেখা করেন সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসকের সঙ্গেও। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। গত ২৭ ডিসেম্বর তাদের দোকানঘর ভেঙে ফেলা হয়। এতে ব্যবসায়ীরা পথে বসেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়েন রাজশাহী মহানগর জেলা স্টেডিয়াম মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শেখ মো. রেজাউর রহমান দুলাল। তিনি বলেন, বর্তমানে একেকটি দোকানের মূল্য ছিলো ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা। ক্ষতিপূরণ ছাড়াই তাদের উচ্ছেদের কারণে তারা চরম বেকায়দায় পড়েছেন। কষ্টকর হয়ে পড়েছে সংসার চালানো। তারা সন্তানের স্কুলের বেতনও দিতে পারছেন না।

দ্রুত সময়ের মধ্যেই যেন তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হয় অথবা পুনর্বাসন করা হয় তার জন্য দুলাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টি কামনা করেন। আর সাত দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করা হলে তিনি কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেন। বলেন, আন্দোলনে অপ্রীতিকর কোন ঘটনা ঘটলে তার জন্য দায়ী থাকবেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার বর্তমান সাধারণ সম্পাদক।

সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনি, সিনিয়র সহসভাপতি মাসুদুজ্জামান রিংকু, ব্যবসায়ী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার আলী, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির জেলার সভাপতি গোলাম সারওয়ার স্বপনসহ অন্যান্য ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ক্রীড়া সংস্থার বর্তমান সাধারণ সম্পাদক রাফিউস সামস প্যাডি বলেন, মার্কেটের যে অংশ ভাঙা হয়েছে সে জায়গাটা খাস। এর মালিক জেলা প্রশাসন। ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের পক্ষে আমিও। সংস্থার সভাপতি জেলা প্রশাসক হামিদুল হক এবং সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন আন্তরিক হলেই সেটা সম্ভব। আশা করি ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা যাবে। কিন্তু তাতে একটু সময় লাগবে। ধৈর্য্য ধরতে হবে।

SHARE